গুচ্ছ কবিতা

রাবণরাজ

প্রতি রাতে রাত্রি হয় না চুরি
বন্ধ দুয়ার রঞ্জিত হয় ছুরি।

বলে কি মন জীবন জেলে
কেমন করে আছিস ছেলে!

বন্দি বিবেক পরাধীনতার পটে
ক্লান্ত জীবন মরেও বাঁচে বটে।

দিনরাত্তির চিন্তা চেটেপুটে
দুশ্চিন্তার দুশমন আসে ছুটে।

মুক্তির পথ বৃথাই খুঁজে মরা
যেখানে বাধা বিপত্তিতে ভরা।

এইতো জীবন দেখছো যেমন আজ
কাল দুঃখ, নয়তো রাবণ রাজ !!
.........................................✍️
দুঃখ পেতে!

মন ময়দানে অতীত অতিথীরা
সোনালী স্মৃতির সেতার বাজায়,
একঘেঁয়েমি জীবন জ্বালা
মুক্তির সাত সংখ্যা সাজায়।

আঁখি চায় আর একবার
দেখতে মণি, হাসির হাস্য,
সকাল- দুপুর -বিকেল- সাঁঝে
কলকলানি শ্রী আস্য!

আজ যে তারা পতির ঘরে
গুছিয়ে করে ঘরকন্যে,
এই কবিতার দুঃখটা কী
বুঝবে ওরা একটুর জন্যে!

আমিও আজ বন্দী ঘরে
সংসারে সুখ সুতোয় গেঁথে
রসে- বসে রয়েছি বসে
সুখ- অসুখের দুঃখ পেতে!!
.....................................✍️
ফাঁকি

রাতের আকাশ ফর্সা বড়
সকাল হলেই মেঘে ভরো
দেখতে লাগে বেশ,
দূর-নীলিমায় সামিয়ানায়
আনন্দ আজ কানায় কানায়
বাদল বেলা শেষ।

এখনো তো ভাদর ভেলায়
মেঘ-বৃষ্টির মিলন মেলায়
নাইতে জীবন বাকি,
দূর মনে প্রেমপক্ষী হবার
সত্যি করে সবাই সবার
দিচ্ছি বড় ফাঁকি !!
...................................✍️
বসবাস

আমার আকাশ চিন্তাচুলায়
নিরুদ্দেশের পত্র ঝুলায়
কষ্ট কলেবরে,
কে কার আপন, পর পরীরা
কেউ নেই আজ মনচরিরা 
দুঃখে জীবন ভরে।

কার ভালো কে মন্দ ভাবায়
হিংসা দ্বেষের হিংস্র থাবায়
জীবন করে নাশ,
এই সময়ের স্বার্থশিরে
মন্দ-ভালোর মানবতীরে
আমার বসবাস !
...................................✍️
সূত্রসেরা

বেশ বলেছ বিশ্বরূপ
এমন কথা কেউ বলেনি আগে
যতোই জ্বলুক চিত্তধুপ
মন্দ-ভালোয় সৃষ্টি শিখর জাগে।

স্পষ্টবাদী স্পষ্ট কথায়
ঝংকারে মন চমৎকার
একলা কবি শান্ত শ্রোতায়
বাতলায় পথ গণৎকার।

সঠিক পথের সূত্র সেরা
কবির মূলমন্ত্র হোক,
আঁধার ছেড়ে আলোয় ফেরা
ভুলেই মোহ মিথ্যে শোক!

ছন্দে যারা ছন্নছাড়া
মিল-অমিলের হারিয়ে খেই
নিরুদ্দেশী নিঃস্ব তারা
খুব হিসেবী জীবনেই !!
....................................✍️
কামদুনির মেয়েটা

দারুন দৈন্যতার নিদারুণ অভিশাপে
হাজারো প্রশ্নের জবাব সে মনে মাপে।
কামদুনির মেয়েটা পরীক্ষার পর
ফিরছিল একা একা আপনার ঘর।
হলো না তার ঘরে ফেরা এ জীবনে আর
ছয় কীটের কামার্তে পরাণটা কাবার।
মেয়েটার চিৎকার শুনলো না কেউ
ছয় কুকুরের ডাক শুধু ঘেউ ঘেউ।
টাকা নয়, কাজ নয়, চাই শুধু শাস্তি
পরিবার-পরিজন তবে পাবে শান্তি!
পথে পা মেলালেন প্রতিবাদ মিছিলে
কেউ বা পড়লো 'ঘামে' দুই পা পিছলে !!
.....................................................✍️
আমি ভালো নেই

সেই পঞ্চমীর প্রাতে
বই দিয়ে এসেছি ফিরে
বহুদিন আর দেখা নেই, কথা নেই
সমস্ত যোগাযোগ ও বিচ্ছিন্ন প্রায়
তোমার ফোনটাও পুকুরে পড়ে নষ্ট হয়েছে
তবে কীভাবে কথা হয়, দেখা হয় আবার !
কী ব্যথায় বেপাড়ায় যাই
বদনামে বড় ভয়,
এই বত্রিশের বেয়াড়া বিকেল
তোমার কথা বড় ভাবায়
জানি অনুচিত অনুরোধ সাধা
তবু, সাঙ্গ স্মৃতির মেলায় হারায় মন
কেমন আছো তুমি?
ভালো নেই ! আমি ভালো নেই !!
.................................................✍️
সৃষ্টি সুখ

দুঃখ দাসী দরজা খোলো
সুখের ঘরে খুনসুটি আজ,
যত দ্বিধা-দ্বন্দ্ব ভোলো
ভাঙাই তোমার অবুঝ লাজ।

রাঙাবো আজ রক্ত রাগে
শুন্যে সামিল হবো দুই,
ঝরবে শ্রাবণ নিশি ভাগে
আহ্লাদে জাগবি তুই ।

কোন পুলকে জাগবে নদী
ক্ষণিক সুখেই সমাধি,
নাচতিস যদি নিরবধি
জীবন দুঃখ জমা দি।

খিদেখেলা শরীরজুড়ে
আশায় বাঁচি আলাদিন
বন্দী দ্বীপে মরছি ঘুরে
ঘুচলো না রে জীবন ঋণ !

মন খুঁজে মন হন্যে হলো
মন মানুষের দেখা নেই,
আহত সে নিজেই মরলো
ধন্য জীবন সৃষ্টিতেই !!
....................................✍️
এইটুকু থাক আজ

কবে কাঙ্খিত কথা ঝরবে খাতায়
উতল হাওয়ায় উদোম হবে রাত
মুক্তমনে বসবে ময়না মাথায়
গাইবে গগন আহ্লাদী হাত !

শূন্য গৃহ পূর্ণ হবে কবে?
দুঃখ যত যন্ত্রণা সব ভুলে
সেই সুদিনের সূর্য উঠবে কবে?
বাঁধবো বেণী জুঁই- চামেলী ফুলে !

দুই দুনিয়া আঁকবে আপন ভুবন
নিজের হাতে গড়বে সোনার তাজ
একলা কবি হাসবে বসে সুমন
অনেক কথার এইটুকু থাক আজ।

................ মৃত্যুঞ্জয় হালদার ********





Comments

Popular Posts